ঢাকাTuesday , 18 August 2020
  • অন্যান্য

চট্টগ্রামে নতুন মাদক নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন


August 18, 2020 12:03 pm । ৫৬ জন
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : পুরো চট্টগ্রামজুড়ে ইয়াবার কারবার রমরমা। এরমধ্যে র‌্যাবের হাতে উদ্ধার হয়েছে নতুন মাদক ফেনইথাইলামিন। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন চট্টগ্রামের প্রশাসন। কারণ এই মাদকের ব্যবহারকারী কারা কিংবা চালানটি কীভাবে চট্টগ্রামে এসেছে বা কোথায় যাওয়ার কথা ছিল সে ব্যাপারে এখনো কোনো তথ্য মেলেনি। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন এই তথ্য জানান। তিনি জানান, মাদক বহনের সময় র‌্যাবের হাতে আটক ফিরোজ খান (৩৭)কে চার দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পরও তার কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য মেলেনি। গতকাল ফিরোজের চারদিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, গত ১১ই আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানাধীন ফয়’স লেক এলাকা থেকে ফিরোজ খান (৩৭) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭৭৭ গ্রাম ফেনইথাইলামিন নামের মাদক উদ্ধার করে র‌্যাবের একটি টিম।

র‌্যাবের দাবি, এই ফেনইথাইলামিনের আনুমানিক বাজার মূল্য ১২ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। এতে প্রতি গ্রাম ফেনইথাইলামিন দাম পড়ছে দেড় লাখ টাকার উপরে। এত দামি নতুন এই মাদক এর আগে দেশের কোথাও উদ্ধার হয়নি। এই ঘটনায় খুলশী থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফিরোজকে চারদিনের রিমান্ডে নেয় খুলশী থানা পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করা হয়েছে। কিন্তু তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে ফিরোজ জানিয়েছে, আজিজ নামে এক ব্যক্তি তার হাতে এই প্যাকেট (ফেনইথাইলামিন) তুলে দিয়েছিল। সে এতটুকুই জানতো। কিন্তু প্যাকেটটি কোথায় যাওয়ার কথা ছিল সে ব্যাপারে তাকে কিছু জানানো হয়নি। এমনকি এটা যে একটি মাদকের প্যাকেট সেটাও ফিরোজ জানে না বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে দাবি করেছে। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মাদকসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ফিরোজ ও পলাতক আজিজ দুজনই ইউএসটিসির কর্মচারী।

একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে তাদের মধ্যে সমপর্ক গড়ে উঠে। ঘটনাটি আরো অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পলাতক আজিজকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। সে গ্রেপ্তার হলে মাদকের এই চালানটির সমপর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ফেনইথাইলামিন একটি সিনথেটিক ড্রাগ। এ মাদকের কার্যকারিতা অ্যামফিটামিন ও কোকেনের মতোই। এটি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত একটি মাদক। ২০১৮ সালের মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে এই মাদক কোনো ব্যক্তির কাছে ২৫ গ্রামের বেশি উদ্ধার হয়েছে বলে আদালতে প্রমাণিত হলে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান রয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ফেনইথাইলামিন খুবই ব্যয়বহুল মাদকের মধ্যে একটি। যা সাধারণ মাদক সেবনকারীদের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। এটা কোকেনের চেয়েও দামি। সাধারণত শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এ মাদক গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জানা মতে, দেশে প্রথমবারের মতো নগরীর খুলশীতে এই ফেনইথাইলামিন মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।