ঢাকাSunday , 9 August 2020
  • অন্যান্য

সন্দেহ নেপথ্যে ব্যবসায়িক পারিবারিক দ্বন্দ্ব

news
August 9, 2020 4:12 am । ৮০ জন
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আবাসন ব্যবসায়ী আবুল খায়েরকে পিটিয়ে হত্যার পেছনে ব্যবসায়ীক ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবুল খায়েরকে যে মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ডেকে নেওয়া হয়েছিল তার সূত্র ধরে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এই হত্যার পেছনে পরিবারের কেউ জড়িত থাকতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে এ ধরনের আভাস মিলেছে। তবে এখনই এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

ভাটারা থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, এই হত্যার ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই খুনের রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। হত্যার সঙ্গে জড়িতরা ধরা পড়বে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আবুল খায়ের সজীব বিল্ডার্স নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের মালিক। গত শুক্রবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার যে নির্মাণাধীন ভবন থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয় সেটিও তার প্রতিষ্ঠানই নির্মাণ করছিল। জানা গেছে, আবাসন ব্যবসার কারণে তার ব্যবসায়ীক অংশীদারসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ ছিল। জমি সংক্রান্ত বিষয়েও তার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। এ ছাড়া আবুল খায়ের বেশ কিছুদিন ধরে আর্থিক সংকটে ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে স্ত্রী রুপালী আক্তারের সঙ্গে টানাপোড়েনও যাচ্ছিল তার। তদন্তে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তদন্তে এরই মধ্যে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। আবুল খায়ের হত্যার ঘটনায় শুক্রবার রাতেই ভাটারা থানায় অজ্ঞাতদের

আসামি করে একটি মামলা করেন তার মেয়ে খাদিজা আক্তার স্বর্ণা। পুলিশ জানতে পেরেছে, এই মামলার বাদী হওয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পারছিল না। এ নিয়ে আবুল খায়েরের ভাই ও স্ত্রী রূপালী বাদী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে এ বিষয়ে পুলিশের কৌঁশলি ভূমিকায় আবুল খায়েরের মেয়ে খাদিজাকে মামলার বাদী করা হয়।

আবুল খায়েরের ছোট ভাই সুবর্ণচর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বাবলু আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমরা ধারণা করতে পারছি না কী কারণে, কারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তবে আমরা চাই এ ঘটনার রহস্য দ্রুত উদঘাটিত হোক। যারা জড়িত তারা যেন আইনের আওতায় আসে।

স্বজনদের দাবি অনুযাযী, গত বৃহস্পতিবার বিকালে একজনের ফোন পেয়ে আবুল খায়ের বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। রাত ৮টার পর কল দিয়ে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ভোরে স্বজনরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন জায়গা খুঁজতে গিয়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনের দোতলায় আবুল খায়েরের হাত-পা বাঁধা লাশ দেখতে পান। আবুল খায়েরসহ ৯ জন নির্মাণাধীন ওই ভবনটির মালিক। গত ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই হওয়ার পর থেকে ভবনের কাজ বন্ধ ছিল।