ঢাকা      সোমবার ২০, সেপ্টেম্বর ২০২১ - ৫, আশ্বিন, ১৪২৮ - হিজরী

স্বামী নামের বহুগামী যন্ত্রটি সাইনবোর্ড হিসেবে কাজ করে: আমেনা তাপসাম

একজন নারী হিসেবে দৈনন্দিন জীবনের কিছু বাস্তবতা, আশংকা এবং অনধিকার আবদার পেশ করেই ফেলি! 

এই সমাজের বস্তি থেজে শুরু করে প্রাসাদের অধিকাংশ পুরুষ (কিশোর থেকে মধ্যবয়সী) নেশাগ্রস্ত। নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারের অধিকাংশ সংসার চালায় কন্যা, স্ত্রী, মাতা, ভগিনীরা। তথাপি তাদের ঘরের এধরণের নেশাগ্রস্ত পুরুষদের কাছে তাদের প্রায়শই শুনতে হয়- চেহারা দেখিয়ে মহাজন/মালিক/বসকে খুশি করে টাকা উপার্জন করিস তোর এত দেমাগ কিশের?? এই নারীরা দিনের পর দিন ঘরে এসকল নমরুদের নেশাসহ নিত্যদিনের চাহিদা মিটায়, অত্যাচারিত হয় তারপরও তারা পরিবারকে বেধে রাখে। কারণ একজন নারী পরিবার প্রথার সেই সৌন্দর্যতা তার ভিতরে লালন করে। কোনো কোনো নারী পরিবারের এসকল দায়িত্বজ্ঞানহীন পুরুষদের বোঝা বা দায় নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে ভিন্ন পথ অবলম্বন করে, প্রলোভনে পরে এর জন্যও পুরুষটিই দায়ী। নিজের পরিবারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে কোনো উচ্চাভিলাষী অল্পশিক্ষিত মেয়ে ধনাঢ্যদের কবলে পরে আর বের হতে পারেনা। ভূলে যায় নিজের সীমা ও সামর্থের কথা। তাদের নিয়ে এই শহর আজ যেভাবে নারীকে উপস্থাপন ও তোলপাড় করলো, এরপর ঘরে ঘরে নারীদের অবস্থা কি হবে কেউ একবার ভেবে দেখেছেন? একজন ঘরের সাহায্যকারীর বাড়ি বাড়ি ঘুরে দিনভর খাটুনির পর বাড়িতে স্বামীর যে নির্মম অত্যাচারের শিকার হতে হয় তা থেকে কিন্তু আমরা তাদের মুক্তি দিতে পারিনা। তার স্বামীর ৭-৮টা বউ। সে বউদের কাছ থেকে মাস শেষে বেতনের টাকা নিজের হাতে নিয়ে নেয়। তবুও নারীটি তাকে ছেড়ে যায়না। কেন জানেন? কারণ স্বামী নামের এই বহুগামী যন্ত্রটি সাইনবোর্ড হিসেবে কাজ করে, অন্য পুরুষের লালসার হাত থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে। 

  অথচ এই শহরে আজ বড় বড় লম্পটদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠলো তাদের নিয়ে কোনো মাতানাতি নেই কিন্তু নারীকে নিয়ে যে ধরনের প্রচার প্রচারণা চললো তাতে গুটিকয় ছাড়া দেশের উচ্চ পর্যায়ের সচেতন প্রগতিশীল ও সুধী সমাজকে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়নি। 

  এই তো আমাদের সমাজচিত্র! আগামী দিনগুলোতে নারী বিদ্বেষ বাড়বে ভয়াবহভাবে! ঘরে ঘরে অত্যচারের মাত্রা বাড়বে বস্তি থেকে প্রাসাদে! তখন শ্রেনী-বিন্যাসে আপনারা সেমিনার করিয়েন। আপনাদের অনেক শ্রদ্ধা হে সুধি সমাজ। আপনারা তো কন্ট্রোভার্শিয়াল বিষয়ে কথা বলে নিজের ইমেজ নষ্ট করবেন না!! ভালো থাকুন আর নিজ দুয়ারে কড়া নাড়ার অপেক্ষা করুন।  

 মনে আছে তো জংগীবাদের সাথে কিন্তু আপনাদের মত প্রভাবশালী উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা কিভাবে ভিড়ে গিয়েছিলো যে আপনারা টেরই পাননি। শিল্পপতি, সাংবাদিক, বিখ্যাত শিল্পীদের সন্তানরাও পিতা-মাতার ব্যাবসায়ী ও প্রভাবশালী বন্ধুর লালসার জালে আটকা পরেছে। আজীবন চেষ্টা করেও অনেকে উদ্ধার করতে পারেননি। এরাও কিন্তু কোনো না কোনো পিতা-মাতার সন্তান। প্রলোভন বা লোভ সংবরণ করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। সেই শিক্ষাটা সবাই পায়না। কিন্তু যারা তাদের ব্যাবসা বা অন্য লালসা মেটানোর কাজে এদের ব্যাবহার করেছে এদের কিন্তু কোনো নীতি নেই। কথায় আছে না প্রেম, যুদ্ধ আর বানিজ্যে সব চলে। এই সবচলা লোকেদের খপ্পরে যে কেউ পরতে পারেন। শুধু সময়ের বেপার!!

------------------------------------------------------------
৭ আগস্ট ২০২১ (শনিবার)
বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা

(বি. দ্র. বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে নয় বরং বহুদিনের নৈতীকতাহীন ক্ষয়িষ্ণু সমাজের চালচিত্রের অংশ হিসেবে যেখানে আমি আপনি সকলেই এর অংশী।
লেখক: আমেনা তাপসাম, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, আগারগাঁও, ঢাকা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ: